হ্যাঁ... আমি পুরুষ। ছেলে, ছোকরা, পোলা-- এসব আমার ডাক নাম। গালাগাল দিয়েও আমাকে ডাকা হয়ে অনেকভাবে। কিন্তু জানেন, আমি প্রতিবাদ করিনা; আমি মাথা গরম করি কিন্তু ক্ষমাপ্রার্থী থাকি; আমি ভালবাসি কিন্তু প্রকাশ করতে পারিনা; আমি মূল্য দিতে জানি কিন্তু মূল্য পাইনা; আমি কষ্টে টুকরো হতে পারি কিন্তু চোখের জল ফেলতে পারিনা।
অদ্ভুত বৈষম্য করে বানিয়েছে ভগবান আমাকে। প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় আমি ৩০ কোটি পরিপূর্ণ শুক্রাণু তৈরি করি বলে আমার মূল্যটা অনেক কম। আমাকে জন্ম নিতে দৌড়ে যেতে হয়ে ডিম্বাণুর দিকে নাহলে সে ৬৭২ ঘণ্টা পর আবার পূর্ণতা পাবে। তারপর আমি আসি পৃথিবীতে অসংখ্য প্রত্যাশার দায়িত্ব নিতে। আমার ছোটবেলাটা খুব ভালই কাটে। কিন্তু জানেন ছোট থেকে দেখি বড়রা গায়ে হাত আমার উপরেই তোলে, নির্দ্বিধায়। আমাকে শেখানো হয়ে এমন এক শিক্ষা যেখানে আমি যেন দায়িত্ব সহকারে পরিবারের উন্নতি করতে পারি। শিক্ষার উপর দাড়িয়ে আমাকে যাচাই করা হয়ে- হয়ে "ভালো ছেলে" নতুবা "বখাটে"।
যৌনতা আসলে আমকে "কিশোর" থেকে "যুবক" হবার সম্মতি দাওয়া হয়ে। শেখানো হয়ে "দায়িত্ব" নামক বোঝা টানার কৌশল। ধিরে ধিরে আমকে একটা টাকা রোজগারের মেশিন তৈরির প্রস্তুতি চলে। সমাজ প্রথমে সেই প্রস্তুতির নাম দায় "শিক্ষা", আমার পছন্দ অপছন্দ পরয়া না করে আমি কিভাবে রোজগার করতে পারবো সেই দিকে ঠেলে দাওয়া হয়ে, মাধ্যম হয়ে সেই "শিক্ষা"। আর সেই শিক্ষিত হয়েও রোজগার না করতে পারলে "বেকার জুবকের" মূল্য কমতে থাকে, কারন সে পিছিয়ে পরেছে। এইবার আসি যৌনতায়। আমি ভালবাসতে শুরু করি এই যুবক অবস্থায়। বলাই বহুল্ল, আমি "নাড়ী"র মন রাখতে ৯৯.৯৯% সাফল্য পাই। কিন্তু সেই ভালবাসার ঠোটের আলগা চুম্বন পালিয়ে যায় আমার বেকার বেকার জীবন থেকে, বেরিয়ে যায় আমার ব্যার্থও জীবন থেকে। আমি তাও প্রচেষ্টা করি- কখনো প্রলভন দেখিয়ে, কখনো মিথ্যা প্রত্যাশা দিয়ে, কখনো হুমকি দেখিয়ে, কখনো অত্যাচার করে।
মধ্যবয়স্কে এসে ওই জুবকেরা পরিপূর্ণতা পায় টাকা রোজগারের মেশিনে। এরা শেখে নিজের আবেগকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিভাবে সে দায়িত্বকে বুকে জরিয়ে রাখবে। বলাই বাহুল্য অনেক পুরানো প্রেম, নতুন প্রেমের অবগত হতে পারে এই সময়ে- যারা এই পুরুষটিকে বেকার জীবনে চিনত না। নতুবা বাড়ীর ইচ্ছা পুরনার্থে আমার জীবনে "নাড়ী"র আগমন ঘটে বিবাহ রূপে। শুধু রোজগার, সংসারে তখন আমি আবদ্ধ নই, আমাকে তখন আরও একজন মানুষ আর তাঁর পরিবারকে আগলে রাখতে দায়বদ্ধ হতে হয়। এতটুকু ভুল করতে সে পারবে না এই বয়সে। ভুল মাত্রই সে মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষে পরিনত হতে হবে।
পুরুষের এই পর্যায় , ভালবাসার কোলে সে এই সময়ে "বাবা" ডাকের সাথে অবগত হয়। সুখী সেই প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষটি বাবা হবার আরও একটি বোঝা কাঁধে তুলে নায়।
জানেন- এতো দায়িত্ব কাঁধে নেবার শক্তি কোথায়ে সে পায়? --উত্তরঃ পরিবার। মুখ বুজে ঝর- বৃষ্টি- রোদে পুড়ে সে যেন খাবার তুলে দিতে পারে তাঁর পরিবারে মানুষের মুখে। শেষ পাতের শেষ আইসক্রিমটা নিজের নয়, সন্তানের মুখে তুলে দিলে সে সন্তুষ্ট, টিফিনের পইসা বাঁচিয়ে স্ত্রীকে গোলাপ দিয়ে সে খুশি। নিজের ব্যাপারে বলতে গর্ব হয়, এই জাতিটার চাওয়া পাওয়া টাই অন্যরকমের। কার্যভারে পরিপূর্ণ আমার জীবনটা কেটে যায় সন্তানকে বড় করে তাঁর সংসার তৈরি করে দিতে দিতে। সুখের আশায় বিবাহিত জীবনটাও কেটে যায়।
কিন্তু সেই যে প্রকিতীর খেলা। ওই শক্ত কাঁধটাও একসময়ে বার্ধককের ভারে দুর্বল হয়ে পরে। যে ভাত- কাপড়ের দায় দায়িত্ব বহন করে এসেছি এতদিন আমি, বুড়ো হয়ে সে শুধু অবহেলিত হয়। আমি সেই ভালোবাসা পাইনা যেটার আমার প্রাপ্য। আমার মুখে অসুধ তুলে দিতে আমারই সন্তানের ঘৃণা হয়। আমি চাইনা জীবনের শেষ কটা দিন বৃদ্ধাশ্রমের দেওালের মধ্যে কাটাতে। আর তারপর... একসময়ে সেই "পুরুষের" শরীরটা থেকে আমার আত্মাটাও বেরিয়ে চলে যায়, আর মলিন হয়ে যায় আমার স্মৃতি।
এই ভাবেই আমি প্রতিটি পুরুষের মধ্যে সময়ের সাথে সাথে একটা জীবনচক্রের মতন করে বড় হতে থাকি। আমি থাকি তোমাদের সাথেই- ভাই, দাদা, বন্ধু, বাবা, কাকা, জেঠা, দাদুর রূপে। সোশ্যাল মিডিয়াতে "Men's Day"-এর Celebration-এর সাথে একটু পারলে ভালবেসো আমাকে। আমার চাওয়া পাওয়ার পরিমাণটা খুবই কম...
অদ্ভুত বৈষম্য করে বানিয়েছে ভগবান আমাকে। প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় আমি ৩০ কোটি পরিপূর্ণ শুক্রাণু তৈরি করি বলে আমার মূল্যটা অনেক কম। আমাকে জন্ম নিতে দৌড়ে যেতে হয়ে ডিম্বাণুর দিকে নাহলে সে ৬৭২ ঘণ্টা পর আবার পূর্ণতা পাবে। তারপর আমি আসি পৃথিবীতে অসংখ্য প্রত্যাশার দায়িত্ব নিতে। আমার ছোটবেলাটা খুব ভালই কাটে। কিন্তু জানেন ছোট থেকে দেখি বড়রা গায়ে হাত আমার উপরেই তোলে, নির্দ্বিধায়। আমাকে শেখানো হয়ে এমন এক শিক্ষা যেখানে আমি যেন দায়িত্ব সহকারে পরিবারের উন্নতি করতে পারি। শিক্ষার উপর দাড়িয়ে আমাকে যাচাই করা হয়ে- হয়ে "ভালো ছেলে" নতুবা "বখাটে"।
যৌনতা আসলে আমকে "কিশোর" থেকে "যুবক" হবার সম্মতি দাওয়া হয়ে। শেখানো হয়ে "দায়িত্ব" নামক বোঝা টানার কৌশল। ধিরে ধিরে আমকে একটা টাকা রোজগারের মেশিন তৈরির প্রস্তুতি চলে। সমাজ প্রথমে সেই প্রস্তুতির নাম দায় "শিক্ষা", আমার পছন্দ অপছন্দ পরয়া না করে আমি কিভাবে রোজগার করতে পারবো সেই দিকে ঠেলে দাওয়া হয়ে, মাধ্যম হয়ে সেই "শিক্ষা"। আর সেই শিক্ষিত হয়েও রোজগার না করতে পারলে "বেকার জুবকের" মূল্য কমতে থাকে, কারন সে পিছিয়ে পরেছে। এইবার আসি যৌনতায়। আমি ভালবাসতে শুরু করি এই যুবক অবস্থায়। বলাই বহুল্ল, আমি "নাড়ী"র মন রাখতে ৯৯.৯৯% সাফল্য পাই। কিন্তু সেই ভালবাসার ঠোটের আলগা চুম্বন পালিয়ে যায় আমার বেকার বেকার জীবন থেকে, বেরিয়ে যায় আমার ব্যার্থও জীবন থেকে। আমি তাও প্রচেষ্টা করি- কখনো প্রলভন দেখিয়ে, কখনো মিথ্যা প্রত্যাশা দিয়ে, কখনো হুমকি দেখিয়ে, কখনো অত্যাচার করে।
মধ্যবয়স্কে এসে ওই জুবকেরা পরিপূর্ণতা পায় টাকা রোজগারের মেশিনে। এরা শেখে নিজের আবেগকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিভাবে সে দায়িত্বকে বুকে জরিয়ে রাখবে। বলাই বাহুল্য অনেক পুরানো প্রেম, নতুন প্রেমের অবগত হতে পারে এই সময়ে- যারা এই পুরুষটিকে বেকার জীবনে চিনত না। নতুবা বাড়ীর ইচ্ছা পুরনার্থে আমার জীবনে "নাড়ী"র আগমন ঘটে বিবাহ রূপে। শুধু রোজগার, সংসারে তখন আমি আবদ্ধ নই, আমাকে তখন আরও একজন মানুষ আর তাঁর পরিবারকে আগলে রাখতে দায়বদ্ধ হতে হয়। এতটুকু ভুল করতে সে পারবে না এই বয়সে। ভুল মাত্রই সে মেরুদণ্ডহীন কাপুরুষে পরিনত হতে হবে।
পুরুষের এই পর্যায় , ভালবাসার কোলে সে এই সময়ে "বাবা" ডাকের সাথে অবগত হয়। সুখী সেই প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষটি বাবা হবার আরও একটি বোঝা কাঁধে তুলে নায়।
জানেন- এতো দায়িত্ব কাঁধে নেবার শক্তি কোথায়ে সে পায়? --উত্তরঃ পরিবার। মুখ বুজে ঝর- বৃষ্টি- রোদে পুড়ে সে যেন খাবার তুলে দিতে পারে তাঁর পরিবারে মানুষের মুখে। শেষ পাতের শেষ আইসক্রিমটা নিজের নয়, সন্তানের মুখে তুলে দিলে সে সন্তুষ্ট, টিফিনের পইসা বাঁচিয়ে স্ত্রীকে গোলাপ দিয়ে সে খুশি। নিজের ব্যাপারে বলতে গর্ব হয়, এই জাতিটার চাওয়া পাওয়া টাই অন্যরকমের। কার্যভারে পরিপূর্ণ আমার জীবনটা কেটে যায় সন্তানকে বড় করে তাঁর সংসার তৈরি করে দিতে দিতে। সুখের আশায় বিবাহিত জীবনটাও কেটে যায়।
কিন্তু সেই যে প্রকিতীর খেলা। ওই শক্ত কাঁধটাও একসময়ে বার্ধককের ভারে দুর্বল হয়ে পরে। যে ভাত- কাপড়ের দায় দায়িত্ব বহন করে এসেছি এতদিন আমি, বুড়ো হয়ে সে শুধু অবহেলিত হয়। আমি সেই ভালোবাসা পাইনা যেটার আমার প্রাপ্য। আমার মুখে অসুধ তুলে দিতে আমারই সন্তানের ঘৃণা হয়। আমি চাইনা জীবনের শেষ কটা দিন বৃদ্ধাশ্রমের দেওালের মধ্যে কাটাতে। আর তারপর... একসময়ে সেই "পুরুষের" শরীরটা থেকে আমার আত্মাটাও বেরিয়ে চলে যায়, আর মলিন হয়ে যায় আমার স্মৃতি।
এই ভাবেই আমি প্রতিটি পুরুষের মধ্যে সময়ের সাথে সাথে একটা জীবনচক্রের মতন করে বড় হতে থাকি। আমি থাকি তোমাদের সাথেই- ভাই, দাদা, বন্ধু, বাবা, কাকা, জেঠা, দাদুর রূপে। সোশ্যাল মিডিয়াতে "Men's Day"-এর Celebration-এর সাথে একটু পারলে ভালবেসো আমাকে। আমার চাওয়া পাওয়ার পরিমাণটা খুবই কম...