কার্ত্তিক মাসের (নভেম্বর মাস) কোনও এক ব্যাস্ত মঙ্গলবার(টুয়েসডে) রোদ্দুর ভরা সকালে অনু কালো চুড়িদার পরে তড়িঘড়ি করে যাচ্ছে বিকালপুর স্টেশনের ট্রেন টিকেট কাটার জন্য। ওহ হ্যাঁ, পরিচয় করিয়ে দি, আনুর ভালো নাম আনুমিতা দে; বাড়ি বিকালপুর , বয়স ২৬, শ্যামবর্ণা, ৫'৪" উচ্চতা, বেশ সাস্থকর , কোঁকড়ানো চুল, হাসিবিহীন দুটি গাল আর দাম্ভির্য ভরা চোখ। আনু ওকালতি পরে বা বলা যেতে পারে ল প্রাকটিস করতে যায়ে কলকাতা কোর্টে, সপ্তাহে তিনদিন। ৩ বছর বড় দাদাও আছে ওর, কিন্তু ও যা ঠোঁটকাটা , কেই বা সাহস করে ওঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে? ওর মা তো বলা বন্ধ করে দিয়েছে, রেলের কাজ থেকে অবসরপ্রাপ্ত বাবা অসুস্থতার কারণের অনুকে বেশি ঘাটায় না। হয়তো ওকালতি যারা করে তারা এমন স্পষ্টবাদী হতে হয়ে। কিন্তু অনু তো ছোটবেলা থেকেই এমন, হয়তো ছোটবেলা থেকেই ওর উকিল হবার ইছা।
সেদিন ট্রেন খুব লেটে চলছিল। ট্রেনের সময়সীমা অনুযায়ী অনু তড়িঘড়ি করে টিকেটটা কেটে নিলো। ৪ নং প্ল্যাটফর্মের পিছনের ওভার ব্রিজের দিকে এগিয়ে গেলো । বাস্ততার মধ্যে একবার ব্যাগ থেকে মোবাইলটা বার করে নোটিফিকেশান চেক করতে করতে ব্রিজ দিয়ে হেটে ২ নং প্ল্যাটফর্মের দিকে নেমে চলছে। ওর খুব অদ্ভুত স্বভাব আছে, যে কোন মোবাইল নোটিফিকেশান আসলেই আগে চেক করা, তা সে প্রত্যুত্তর এক সপ্তাহ পরে দিক না কেন।
আনমনা অনু নেমে এলো প্লাটফর্মে, ব্রিজের সিরিটার পাশেই ও দারিয়ে। আনমনা মনে অপেক্ষারত চোখ নিয়ে বাঁ দিকে ট্রেনের সিগনালের দিকে তাকাল, তখনও লাল দেখাছে। ডান দিকে ঘুরে মোবাইলটা সাইডের বাগে ঢোকাতে যাবে এমন সময়ে ওর চোখে পরল সেই জায়গাটা...
৫ বছর আগের কথা... ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট শুভর সাথে অনুর পরিচয়। শুভাদিত্ত রয়চৌধুরী ওরফে শুভ, এক সোশাল মিডিয়াতে অনুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়ে। এক দুর্গা পুজার মহাষ্টমীতে ওদের প্রথম কথা বলা শুরু। সেখান থেকে বন্ধুত্ব বাড়তে থাকে। কোন দিনক্ষণ নেই, এমনই আসতে আসতে দুজন দুজনের খুব ঘনিষ্ট হয়ে ওঠে। রোজ রাতে গল্প, খুনসুটি, ঝগড়া, নিজের নিজের অহং বোধ , রাগ করে চুপি চুপি কাদা, কথা না বলার পর দুজন দুজনের সোশাল মিডিয়াতে লাস্ট সিন চেক করা আর কথায়ে কথায়ে ব্রেকাপ-- এই ছিল ওদের নিত্ত সঙ্গী। কিন্তু সেবারে অনু খুব কেঁদেছিল যখন জানতে পারল শুভকে ওর চাকরিসুত্রে বেঙ্গালরে চলে যেতে হবে। যাবার আগে ওরা শেষ বাড়ের মতন বিকালপুর স্টেশনে দেখা করে, শুভকে জরিয়ে সেই কি কান্না অনুর। অনেক প্রতিশ্রুতির মাঝে বিদায় দেয়ে অনু শুভকে।
আজ অনুর সেই দিনটার কথা মনে পরে গেলো। ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত চোখ দুটো হটাৎ কেন যেন লাল ভারাক্রন্ত হয়ে উঠল। অনু আর মোবাইলটা ব্যাগে ভরলনা, কন্টাক্ট লিস্টটা খুলে সার্চ করল - "শুভ" বলে। শুভর নীল রঙের শার্ট পরা ছবিটা ভেসে উঠল মোবাইলএ, আর জলে ভরে গেলো অনুর দুচোখ। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেকে সামলে নিলো অনু। বাঁ হাত দিয়ে আরাল করে চোখের জলটা মুছেনিল। ঠিক এইভাবেই ৫দিন কান্নাকাটি করার পর অনু নিজেকে সামলে নিয়েছিল যখন শুনেছিল রাস্তার মাঝে শুভকে একটা লরি... শেষদিনেও অনু দেখতে যায়নি। আজও চোখ ছলছল আর বুকফাটা অবস্থায় অসহায় অনু "শুভ"র নাম্বার ডিলিট করে দিল।
সেদিন ট্রেন খুব লেটে চলছিল। ট্রেনের সময়সীমা অনুযায়ী অনু তড়িঘড়ি করে টিকেটটা কেটে নিলো। ৪ নং প্ল্যাটফর্মের পিছনের ওভার ব্রিজের দিকে এগিয়ে গেলো । বাস্ততার মধ্যে একবার ব্যাগ থেকে মোবাইলটা বার করে নোটিফিকেশান চেক করতে করতে ব্রিজ দিয়ে হেটে ২ নং প্ল্যাটফর্মের দিকে নেমে চলছে। ওর খুব অদ্ভুত স্বভাব আছে, যে কোন মোবাইল নোটিফিকেশান আসলেই আগে চেক করা, তা সে প্রত্যুত্তর এক সপ্তাহ পরে দিক না কেন।
আনমনা অনু নেমে এলো প্লাটফর্মে, ব্রিজের সিরিটার পাশেই ও দারিয়ে। আনমনা মনে অপেক্ষারত চোখ নিয়ে বাঁ দিকে ট্রেনের সিগনালের দিকে তাকাল, তখনও লাল দেখাছে। ডান দিকে ঘুরে মোবাইলটা সাইডের বাগে ঢোকাতে যাবে এমন সময়ে ওর চোখে পরল সেই জায়গাটা...
৫ বছর আগের কথা... ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট শুভর সাথে অনুর পরিচয়। শুভাদিত্ত রয়চৌধুরী ওরফে শুভ, এক সোশাল মিডিয়াতে অনুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়ে। এক দুর্গা পুজার মহাষ্টমীতে ওদের প্রথম কথা বলা শুরু। সেখান থেকে বন্ধুত্ব বাড়তে থাকে। কোন দিনক্ষণ নেই, এমনই আসতে আসতে দুজন দুজনের খুব ঘনিষ্ট হয়ে ওঠে। রোজ রাতে গল্প, খুনসুটি, ঝগড়া, নিজের নিজের অহং বোধ , রাগ করে চুপি চুপি কাদা, কথা না বলার পর দুজন দুজনের সোশাল মিডিয়াতে লাস্ট সিন চেক করা আর কথায়ে কথায়ে ব্রেকাপ-- এই ছিল ওদের নিত্ত সঙ্গী। কিন্তু সেবারে অনু খুব কেঁদেছিল যখন জানতে পারল শুভকে ওর চাকরিসুত্রে বেঙ্গালরে চলে যেতে হবে। যাবার আগে ওরা শেষ বাড়ের মতন বিকালপুর স্টেশনে দেখা করে, শুভকে জরিয়ে সেই কি কান্না অনুর। অনেক প্রতিশ্রুতির মাঝে বিদায় দেয়ে অনু শুভকে।
আজ অনুর সেই দিনটার কথা মনে পরে গেলো। ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত চোখ দুটো হটাৎ কেন যেন লাল ভারাক্রন্ত হয়ে উঠল। অনু আর মোবাইলটা ব্যাগে ভরলনা, কন্টাক্ট লিস্টটা খুলে সার্চ করল - "শুভ" বলে। শুভর নীল রঙের শার্ট পরা ছবিটা ভেসে উঠল মোবাইলএ, আর জলে ভরে গেলো অনুর দুচোখ। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেকে সামলে নিলো অনু। বাঁ হাত দিয়ে আরাল করে চোখের জলটা মুছেনিল। ঠিক এইভাবেই ৫দিন কান্নাকাটি করার পর অনু নিজেকে সামলে নিয়েছিল যখন শুনেছিল রাস্তার মাঝে শুভকে একটা লরি... শেষদিনেও অনু দেখতে যায়নি। আজও চোখ ছলছল আর বুকফাটা অবস্থায় অসহায় অনু "শুভ"র নাম্বার ডিলিট করে দিল।
No comments:
Post a Comment