Showing posts with label Kankrajhor. Show all posts
Showing posts with label Kankrajhor. Show all posts

Saturday, December 9, 2023

Kankrajhor- দুই দিন প্রকৃতির কোলে

Kankrajhor- দুই দিন প্রকৃতির কোলে 

" সঞ্জয়দা,  তৈরি হয়ে নাও"...এইটুকু শুনতেই হছমছিয়ে উঠে পরলাম। তখন ভোঁর ৬টা বাজে। Back-to-Back meeting-র যেরে ভোরবেলা ওঠা আমি college life-এই ছেঁড়ে এসেছি। তাই দেরী না করে একটু অসম্পূর্ণভাবেই সকালে কোনমতে আগের দিনের গুছিয়ে রাখা জামাপ্যান্ট পরে বেরিয়ে পরলাম প্রকৃতির সাথে দেখা করতে। বাড়ী থেকে হেঁটে একটু এগিয়ে গেলেই main road, অভি বলেছিল আমাকে ওই রাস্তায়ে দাড়িয়ে থাকতে। আমি হেঁটে হেঁটে road-এ উঠতে গিয়ে দেখি আভি- ওর লাল রঙয়ের EcoSport নিয়ে দাড়িয়ে আছে। দৌরে গিয়ে দেখা করেই সেই উল্লাস। বললাম- "তোর ঘুরতে যাবার সময়ে কোন দেরী হয় না, তাইনা?"

-"প্রকৃতির সাথে দেখা করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনা, জানোই তো" - এই বলে অভি একটা cigarette ধরাল। 

একটা বড় লাল রঙয়ের আভা ছড়ান সূর্যটাকে দেখছিলাম উঁকি মারতে আমাদের সমাজের তৈরি socity building-র মাঝখান থেকে। এ যেন আমাদেরই তৈরি barrier... প্রকাশকে আমাদের মাঝে পৌঁছানোর। আমি আর কিছু বললাম না। cigarette- এর ২টো টান দিতেই দেখলাম টয় আর বনি চলে এসেছে।

খুব বেশী দেরী না করে আমাদের luggage গুলো গাড়িতে ভরে দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম, ঘড়িতে দেখলাম- সকাল ৭:৪০। শুরু হোল গাড়ীর ভিতরে বসে হুল্লোড় করা। খুব ভোরে উঠে dicipline করে Gym করা মানুষের মধ্যেও এত স্ফূর্তি দেখা জায়না। IT তে কাজ করা মানুষরা হয়ত তাই হয়ে। সোম থেকে শুক্র দাসত্ব, আর শনি-রবি ত্রাসত্ত। সেই গল্প করতে করতেই পৌঁছে Barrackpore থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরে Kolaghat- এ। বনি বলল- এবার Breakfast টা সেরেনি। আমরা লুচি- ঘুগনি আর এক ভাঁড় চা খেয়ে আবার বেরিয়ে পরলাম। 

Google-map এর কথামত Kolaghat থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে আমরা Balihati থেকে turn না নিয়ে কলকাতা-মুম্বাই রোডে চলতে থাকলাম। জীবন্ত মাপ আভি বলল এই High-road- এ ৪০ কিলোমিটার বেশী পরলেও আমরা তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাব। আর ঠিক তাই হোল। বেলা ১২ টার মধ্যে আমরা Kharagpur Lodhasuli পৌঁছে যাই। High-road- এর আশেপাশে লাল মাটির ক্ষেত আর মাটির বাড়ীর নজর, উফফ শুধু চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। " লাল মাটির সরানে" শিলাজিতের সেই বিক্ষ্যাত গানটা চালিয়ে শুনতে শুনতে দুপুর ২ টয় ঘাটশিলা পৌঁছে গেলাম। টয় বলল- Burudi Dam দেখে আমরা lunch করব।Ghatshila থেকে একটু দূরে Chengjora মোড় থেকে আমরা একটু এগিয়ে যেতেই প্রথম পাহাড় চোখে পরল। বা-হাতে লাল পাহাড় আর ডান হাতে এক বিশাল বড় হ্রদ( artificial lake you may say)- Burudi Dam। অসাধারন সৌন্দর্য। এটা ডিসেম্বর মাস, তাই অনেক পিকনিক প্রেমী মানুষের আনাগনা হয়েছে দেখলাম। দৃশ্যটা চোখ ফেরানোর মতন নয়। লাল মাটির উপরে একটা স্থির জলে পাশের পাহাড়ের প্রতিছবি... ৩০ মিনিট আমরা সবাই সেটা উপভোগ করে দুপুরের খাবার খেতে বসেগেলাম। 

বিকাল ৪ এর মতন হবে, আমরা আমাদের আগে থেকে বুকিং করে রাখা Dhitang Homestay-এর দিকে এগিয়ে চললাম। রাস্তা ধীরে ধীরে ঘন জঙ্গলের দিকে এগিয়ে চলছে। গাড়ীর কাঁচটা খুলে বসলাম। আভিকে বললাম একটু দাড় করাও গাড়ীটা, বনের নিস্তব্ধতা একটু অনুভব করতে ইচ্ছে করছে। গাড়ী থেকে নেমে হেঁটে আমরা বনের মধ্যে এগিয়ে চললাম। আমাদের পায়ের আওয়াজ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। যদি দাড়িয়ে পড়ি, শুধু মাছির আওয়াজ ছাড়া বাকি বন সম্পূর্ণ নীরব। এ এক আলাদা অনুভুতি, চারপাশে লম্বা লম্বা শাল গাছ, পরে থাকা শুঁকনো পাতা, আলো কমে আসা লাল মাটির সরু পথে আমরা কিছুক্ষণ বনের নিস্তব্ধতায় দাড়িয়ে থাকলাম। ওরা না থাকলে এই বিকেলের আলোতেও গা ছম ছম করত। আমি কখনও এর আগে এমন নিরবতার সাক্ষী হইনি।

বিকেল ৫ টায়ে আমরা পৌঁছলাম Dhitang Homestay-তে। ঢুকে সেখানে দেখলাম ৪ টে আলাদা আলাদা খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর আছে- একটার নাম "ধামসা", একটার নাম "মাদল" আরও একটার নাম "ধাসাই" আর কিছু তাঁবু রাখা। আর মাঝখানে বিশাল বড় সাজানো বাগান। কলকাতার ছোট ছোট দামী আর উঁচু উঁচু ফ্ল্যাট দেখতে দেখেতে হটাত করে তাঁবু দেখে মনটা ভরে গেল। বনকে আরও একটু অনুসন্ধান করতে যেতে না যেতেই হটাত শুনতে পেলাম - " ওই দেখো...পিছনে"। ঘাড় ঘোরাতেই আচমকা দেখি ৪ টে ময়ূর বাগানে ঘুরে বেরাছে। চোখটা জুরিয়ে গেল নিল বেগুনি পেখম মেলা একটা ময়ূর আর তার পাশে ঘুরে বেরনো ৩ টে ময়ূরী। 

গাড়ী থেকে ব্যাগ নিয়ে আমরা "মাদল"এ check-in করলাম। মনে মনে একটাই কথা ঘুরছে, ঘরের পিছনের বনটা একটু ঘুরে দেখতে হয়। তাই খুব তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে ঘরের পিছনে গেলাম। আকাশের দিকে তাকাতে দেখি সকালে সেই ফ্লাটের মাঝের সূর্যটা এখন পাহাড়ের কোলে নুইয়ে পরেছে। আর পাহাড়ের ছাওয়া ধীরে ধীরে সন্ধ্যের অন্ধকারকে ডেকে আনছে। কিছুক্ষণ পর দেখলাম অভিও বেরিয়ে এল। এমন সময়ে একজন সাদা শাড়ী পরে হাতে কলসে নিয়ে আমাদের সামনে থেকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলো, হটাতই অভি বলে উঠল- "এই বনে রাস্তা আছে? কোথায়ে যাচ্ছেন  আপনি? "

-"স্নানে যাচ্ছি"... এই বলে মহিলাটি এগিয়ে গিয়ে উধাও হয়ে গেল। টয় আর বনি তখনও রুমের ভিতরে। আমি আর অভি দুজনেই অবাক। বনের মাঝে কোন রাস্তা নেই, একটু মনে সাহস করে এগিয়ে যেতেই দেখি বিশাল নিছু একটা নালা। দুদিক বাধান, নালাটি বনের একপাশ থেকে অন্য পাশে বয়ে গেছে। নালার ওপাশে ঘন কালো অন্ধকার করা বন আর এপাশে বাঁ হাতে বড় বটগাছ আর ডান পাশে ৩ টের মতন বড় কলা গাছ। এই অন্ধকারে মহিলাটি কোথায়ে গেল?গ্রামের মানুষতো চারপাশে নেই,তাহলে? এত বিকালে গ্রামের মানুষ স্নান করে? একরাশ প্রশ্ন নিয়ে আমরা আবার "মাদল"এর রুমে ঢুকলাম। তখন রাত ৮ টা; আগে থেকে বলে রাখা পাতা চিকেন, পোকরা, আর কারাওকে ব্লুটুথ স্পিকার নিয়ে আমরা ৪ জন রাতের নিস্তব্ধতাকে চূর্ণ করে পার্টি আমাজে ভরিয়ে দিলাম। 

কুক্কুরুকুক্কু... করে ডেকে ওঠা মুরগী আর খস খস করে হেঁটে যাওয়া অভির চপল্লের আওয়াজে আসতে আসতে একটা চোখ খুললাম। সেই দেখে হটাতই বনি বলে উঠল- "১১ টা বাজে সঞ্জয়দা..." হছমছিয়ে উঠে বসতেই টয় বলল-" না না... ইয়ার্কি মারছে ওঁ, গুড মর্নিং, ৭ টা বাজে "। "হুম,মর্নিং মর্নিং... তোমরা আমাকে ঘুমোতে দেবেনা..."- চমকে ওঠা চোখটা বুজে আলমরা দিয়ে বলাম আমি। নাহ! আর দেরী করলাম না। রবিবারের সকালটা পুরোটা এক্সপোলার করার চিন্তা নিয়ে আমরা তাড়াতাড়ি স্নান সেরে তৈরি হয়ে breakfast অর্ডার করলাম। সকাল ৮.২০ বাজে... সকালে খাবারটা এত সুস্বাদু ছিল যে আমি দুটো লুচি আর একটা এক্সট্রা অমলেটও নিয়ে নিয়েছিলাম। টয় আর অভি তখন খাবারের টাকা মেটাছিল আর আমি সেই সময়টাকে নষ্ট না করে এক ভাঁড় চা আর cigarette ধরিয়ে "মাদল"এর সামনে ঝুলিয়ে রাখা দোলনায় চরে বসলাম, বলা চলে একপ্রকার শুয়েই পড়লাম। চারপাশে সবুজ বনের পাতার ফাঁকে আকশটা এপাশ থেকে ওপাশে নরে চলেছে। আকশটা স্থির হতেই আবার করে দোলনাটা পা দিয়ে দুলিয়ে দিলাম। অদ্ভুত মনরম এ সকাল...আনমনা মনটাকে আবার আকর্ষিত করল আভির গাড়ীর হর্ন। সময় হয়ে গেছে বেরিয়ে পরার। 

সকাল ৯.১০, আমরা রওনা হলাম Jhilimili-র দিকে। অভি বলল প্রথমে আমরা Jhilimili-র পাশের Rimil stay-তে বসে আড্ডা মেরে lunch করে আবার একটু বন ভ্রমন করব। তাই আমরা বনের মাঝে tree house-এর খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম Jhilimili-র দিকে। গাড়িতে আমাদের গল্পের বিষয় ছিল- আগের দিন সন্ধ্যে বেলা দেখা ওই সাদা শাড়ী পড়া মহিলার অদৃশ্য হয়ে যাবার রহস্য। দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেল, আমরা Rimil stay-তে পউছেও গেলাম, অথচ আমাদের মধ্যে থেকে যাওয়া রহস্যজনক প্রশ্নের উত্তর আমরা উত্তর পেলাম না। আমার মনে পরে, সেই আলোচনা সকাল ১০.৪০ অবধি চলে, আর তারপরেই আমরা পৌঁছে যাই Rimil stay-তে। ঢুকতেই দেখি বিশাল বিশাল দুটো tree house, ঠিক যেন ৪ টে বড় গাছের মগডালে একটা কুঁড়ে ঘর বানিয়ে রেখেছে। আমরা ৪জন চার দিকে ছড়িয়ে পড়লাম। পূবে টয় গেল tree house দেখতে, পশ্চিমে অভি গেল খাবার অর্ডার করতে, উত্তরের বনের মাঝে বিভিন্ন ফল গাছ নিরীক্ষণ করছিল বনি আর আমি চললাম দখিনে বিশাল বড় Jhilimili-র ঝিলের মাঝে চরে বেরানো White swan দেখতে, বাংলায় আমরা যাকে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর বাহন রাজহাঁস বলে থাকি। এক আর্টিকেলএ পরেছিলাম যে- রাজহাঁস হল জলপাখি পরিবারের বৃহত্তম বর্তমান সদস্য এবং বৃহত্তম উড়ন্ত পাখিদের মধ্যে অন্যতম। আর আমরা যে প্রজাতিটি দেখতে পেলাম সেটা ঠোট হলুদ কালো মিশ্রিত, দেহ সম্পূর্ণ বরফের মতন সাদা আর শান্ত,  খুব সম্ভব এই প্রজাতিকে নিঃশব্দ রাজহাঁস (mute swan) বলে, কারন এরা এদের প্রজাতির মধ্যে সব থেকে শান্ত। গোটা ১৫-১৬ টা রাজহাঁসের সাথে কয়েকটা ছবি তুলে, সবাইকে একজায়গায় ডেকে আমরা আবার চা আর চিকেন পোকরা খেলাম। 

সেই টেবিলে গল্পের টেবিল ছেঁড়ে আমরা  দুপুর ১ টা নাগাদ বেরোলাম গভীর বন দেখতে। আজ আমাদের থাকার জন্য বুকিং আছে Jhinuk Camp-এ। তাই আমাদের আজ দুপুরের খাবার পরেই হবে। রাজহাঁসের গল্প করতে করতে ৩০ কিলোমিটার পেরিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম লোদহাশুলির গভীর অরণ্যে। সরকারী উদ্যোগে ওই বনের মধ্যেও পাকা পিচের রাস্তা ধরে ঘন থেকে ঘনতর হয়ে চলেছে সেই বন। প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার ভেতরে যেতেই আমি মানা করলাম অভিকে-"আর ভিতরে যেও না, আমরা একটু হেঁটে দেখি, তারপর চলে আসব। একটু গাঁ ছম ছম করছে কিন্তু"। "আমারও তাই গো"- পিছন থেকে ভারী গলায় বনিও বলল। সময় এখানে স্থব্ধ। আমাদের চলাচল না করলে কোন শব্দের অস্তিত্ব নেই। এখানে এতটাই নিস্তব্ধ যে আমি আমার নিজের নিঃশ্বাসটাও ফেলা শুনতে পারছি। এত নীরবতায় আমি নিজের জীবনের প্রতিটা মুহূর্তের সাথে নিজের পরিচিতি খুঁজে পাচ্ছিলাম। এইভাবে যদি জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত বাঁচতে পারতাম-একটা ইচ্ছা মনে এল... মিনিট ২০ আমরা সবাই সেই নিস্তব্ধতা উপভোগ করলাম। এবার Jhinuk-এ ফেরার পালা-অপরপক্ষে খোলা আকাশ ছেঁড়ে খোলসে ঢোকার পালা।

প্রায় ৭৮ কিলোমিটার পার করে আমরা পৌঁছলাম Jhinuk Camp-এ।বনি গাড়ী থেকে বেরিয়েই Camp-এর ভেরতের ধাবাতে এক মহিলাকে খাবার বানানোর জন্য বলল। "বিকেল ৫ টা হয়ে গেছে, ভারি খাবার বানাতে না বোলো, অল্প ম্যাগি হলেই ভালো হয়"- টয় গাড়ী থেকে ব্যাগ নামাতে নামাতে বলল। রিসোর্টের ম্যানেজার আসতেই একটা চমকপ্রদ কথা শুনলাম... অভি আমাদের বুকিং কোন রুমে করেনি, করেছে কাম্পে। দুটো চোখ বড় বড় করে আমি আর টয় বললাম-"অসম্ভব!! কোন দরজা জানলা নেই,দেয়াল ছাঁদ নেই, চেন টানা আস্ত বড় একটা ব্যাগ। কাম্পে থাকব কিভাবে?। এই কথা শুনে হেঁসে অভি বলল-"থেকে দেখো, কাল জানিও খারাপ লাগলে।" সন্দেহ হোল অভির বিশ্বস্ত হাঁসি দেখে। জুতো বাইরে খুলে চেন খুলে কাম্পের ভেতরে ঢুকলাম, ভিতরে অনেকটা জায়গা, দুজন শুতে অসুবিধা নেই কিন্তু ব্যক্তিগত কোন জায়গা নেই। অথচ আমার খারাপ লাগাটা যেন আসতে আসতে কমতে শুরু করল। 

সন্ধ্যে ৭ টা, অভি আমাদেরকে একটা tree house-এ নিয়ে যায়। সরু সরু বাঁশ দিয়ে বানানো সিঁড়ি একরকম প্রান হাতে নিয়েই উঠলাম আমি। আহা!!! কি দৃশ্য!!! সামনে অনেকটা খোলা জঙ্গল যা Camp-এর আলোয় কিছুটা সবুজ আর কিছুটা কালো রাতের আঁধারে, তারপরে একটা বিশাল কালো পাহাড়, উপরে ধূসর আকাশের মাঝে জ্বল জ্বল করা একফালি চাঁদ। ছোটবেলায় রাতের ছবি আঁকার সময় আমি এমনি কিছু দৃশ্য তুলির রঙয়ে ভরাতাম। মায়াবী এ দৃশ্য। 

একটা জমজমাটি আড্ডা দিয়ে আমরা tree house থেকে নেমে দেশী মুরগির ঝোল দিয়ে ভাত খেলাম। রাত ১১ টা, কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডা যেন হাড় হিম করে দিছে আমাদেরকে। এই ঠাণ্ডায়ে ওই কাম্পে ঘুমবো কিভাবে? মনে এমন প্রশ্ন আসতেই অভি ওর অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে বলল-"ঠাণ্ডা পরেছে, ঠাণ্ডা লাগছে, প্রকৃতিতে এসেছ, প্রকৃতির ঠাণ্ডাকেও বরণ করে নাও..." ৫ সেকেন্ড ধরে বসে থেকে ওর কথাগুলো বুঝে আমি শুয়ে পড়লাম।

আবারও কুক্কুরুকুক্কু...মোবাইলের অ্যালার্মটাও বাজেনি, চোখ খুলে গেল দেশী মোরগের আওয়াজে। উঠে দেখি ৭ টা বাজতে ৫ মিনিট তখনও বাকি। আস্তে আস্তে বুঝলাম এক পরিপূর্ণ ঘুম দিয়ে উঠলাম আমি। শরীরে কেমন যেন উঠেই একটা সক্রিয়তা অনুভব করলাম। কাম্পের চেন খুলে বাইরে আসতেই দেখি সেই রাতের কালো পাহাড়টা সবুজ ঘন বন্য পাহাড়ের আঁকার নিচ্ছে। কর্মরত জীবনে একদিনও পারিনি বলে ওই পাহাড়ের কোলের দিকে টহল দিতে শুরু করে দিলাম। শান্ত সকাল, শিশির ভেজা ঘাস, আঁকা বাঁকা রাস্তা, পাহাড় একে একে সব চোখ দিয়ে দেখে মনের ভিতরে সেই অভিজ্ঞতা বন্দি করতে ইচ্ছা করছিল কারণ আজই আমাদের ঘরে ফেরার পালা। তাই বেশী দেরী না করে ঝটফট তৈরি হয়ে breakfast অর্ডার করলাম। এখানেও ছিল লুচি কিন্তু সাথে ঘুগনি, ডিম সিদ্ধ, সুজির হালুয়া খেয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম বাড়ীর দিকে। 

আজ এক সপ্তাহ হল... ১০ বাই ১০এর বন্দী ঘরে, ল্যাপটপ নামক যন্ত্র নিয়ে বসে আছি ঠিকই কিন্তু ওই দুটো দিনের প্রতিটি মুহূর্ত আজও মনে পরে, প্রযুক্তি নিয়ে অনেক এগিয়ে চলে এসেছি কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তের অনুভুতি প্রকৃতিই জোগান দেয়। 

তিন থেকে তিনে

রবিবারের দুপুর...খাওয়া শেষ করে টিভি চালিয়ে বসে আয়েস করছিলাম। হটাত শেখরের ফোন এল- "বিকালে চা খেতে আসবি? আড্ডাও দেব"। আমি ঘড়ির দিকে ...