"আজ বিকালটা যেন কাটতেই চাইছে না। কলেজের ল্যাবটাও আজ তারাতারি শেষ হয়ে গেল।"- বিড়বিড় করে এই কথাটা বলে বিছানাটা ছেঁড়ে উঠে পড়ল সুদীপ। বিছানা ছেঁড়ে ৪-৫ হাত দূরে ড্রেসিং টেবিল পর্যন্ত পায়চারি করছিল, হটাত কি মনে হোল ; বিছানার নীচে সিগারেট আর দেশলাইয়ের বক্সটা বার করে নিয়ে বিছানার পাশের বাল্কনির দরজাটা খুলে বাইরে এলো।
আশ্বিনের বিকাল। সূর্যটা তখনও পুরোপুরি ডোবেনি। আকাশের এক কোনে যেন কে এক ছড়াক আবীরের লাল রঙটাকে ছড়িয়ে দিয়েছে। সুদীপ একটা সিগারেট বার করে জ্বালিয়ে বাল্কনিতে দাড়িয়ে আছে ওই লাল রঙের আকাশটাকে স্থির চোখে তাকিয়ে। আনমনা মনে হটাতই ওর চোখ পড়ল সামনের বাড়ির জানলাটার উপর। রিমা যে জানলার ধারে বসেই ছিল, সুদীপ সেটা বুঝতেই পারেনি।
রিমা, সুদীপের কলেজেই পরে। সেই ছোট্ট বেলা থেকে ওরা দুজন দুজনকে চেনে। একসাথে বড় হওয়া, একসাথে খেলাধুলো, একসাথে বন্ধুত্ব, একই সাথে একই সাবজেক্ট নিয়ে কলেজে প্রবেশ। এক সাথে বড় হওয়া বন্ধু গুলোর মতন ওদের মধ্যে কোন রেষারেষি ছিলনা কোনোদিনই। কলেজটা যত শেষের দিকে এগিয়ে আসছে, সুদিপ-রিমার সম্পর্কের সেঁকলটা ততো ওদের আস্টেপিস্টে বেঁধে ফেলেছে। বলাই বাহুল্য, সুদীপ আর ওর নিজের জীবনটাকে রিমা ছাড়া ভাবা শুরু করেনি। ওর ভাবনা- যেমনটা করে ওদের জীবনের ২৪ টা বছর কেটে গেছে, বাকি জীবনটাও সেভাবেই বন্ধুত্ত-স্নেহ-খুনসুটিতে কেটে যাবে।
কিন্তু এমনটা হয়েতো ওদের বাবা-মা ভাবেনি। গত পরশু কানা-খুসোতে সুদীপ জানতে পারে, রিমার বাড়িরতে ছেলে দেখাশুনো চলছে। যাচাই করতে কাল সুদীপ, রিমাকে জিজ্ঞাসা করেছে, কিন্তু কোন লাভ হয়েনি। ব্যাপারটা রিমাও প্রথম শুনেছে সুদীপের মুখ থেকে, রিমাও তাই আশ্চর্য হয়ে যায়ে। এই নিয়ে ওরা আর আলোচনা করেনি নিজেদের মধ্যে। ওরা দুজন এখনও বিচ্ছেদের ব্যাথা অনুভব করেনি।
আজ হয়েতো সেই কথাগুলই সুদীপকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। জানলাতে চোখ পরতেই সুদীপ তাই সেই পরিচিত চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে ছিল। কি যেন একটা বই পরছিল রিমা। হটাত একটা দমকা হওয়া দিল। হরিণী ওই চোখ দুটো থেকে রেশমি চুলটা সরাতে রিমাও দেখল ওর সাথীকে, বাঙ্কলিতে দাড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে। কত কি বলা বাকি থেকে গেল , সুদীপের চাওনিতে সেটা স্পষ্ট বোঝা যাছে। হয়েতো একটু ভুল বলা হোল, রিমার চোখে আজ সেই প্রফুল্লতা কেমন মলিন হয়েগেছে সুদীপকে দেখে। এক দৃষ্টিতে দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে, একটা শূন্যটা দুজনকে ভিতর থেকে খেয়ে ফেলছে। দুজনে জীবনের বইটা লেখা শুরু তো করেছিল, কিন্তু শেষটা লিখতে পারবে কিনা সেটার কোন সম্ভাবনা ওরা খুজে পেল না। একে অপরের চিন্তায়ে হারিয়ে ফেলা মনে সুদীপ নিজেকে খুজে পেল যখন বুঝতে পারল ওর হাতের সিগারেটটা জ্বলে ওর আঙুলে সেঁকা দিল। হাত নাড়িয়ে সিগারেটটা ফেলে দিতেই সুদীপ এক চেনা হাসির আওয়াজ শুনতে পেল, দেখতে পেল সুদীপের বাড়ির বাল্কনির উল্টো দিকে থাকা মেয়েটির অপরিম্লান হাসিটা এখানও একই রকম আছে।
আশ্বিনের বিকাল। সূর্যটা তখনও পুরোপুরি ডোবেনি। আকাশের এক কোনে যেন কে এক ছড়াক আবীরের লাল রঙটাকে ছড়িয়ে দিয়েছে। সুদীপ একটা সিগারেট বার করে জ্বালিয়ে বাল্কনিতে দাড়িয়ে আছে ওই লাল রঙের আকাশটাকে স্থির চোখে তাকিয়ে। আনমনা মনে হটাতই ওর চোখ পড়ল সামনের বাড়ির জানলাটার উপর। রিমা যে জানলার ধারে বসেই ছিল, সুদীপ সেটা বুঝতেই পারেনি।
রিমা, সুদীপের কলেজেই পরে। সেই ছোট্ট বেলা থেকে ওরা দুজন দুজনকে চেনে। একসাথে বড় হওয়া, একসাথে খেলাধুলো, একসাথে বন্ধুত্ব, একই সাথে একই সাবজেক্ট নিয়ে কলেজে প্রবেশ। এক সাথে বড় হওয়া বন্ধু গুলোর মতন ওদের মধ্যে কোন রেষারেষি ছিলনা কোনোদিনই। কলেজটা যত শেষের দিকে এগিয়ে আসছে, সুদিপ-রিমার সম্পর্কের সেঁকলটা ততো ওদের আস্টেপিস্টে বেঁধে ফেলেছে। বলাই বাহুল্য, সুদীপ আর ওর নিজের জীবনটাকে রিমা ছাড়া ভাবা শুরু করেনি। ওর ভাবনা- যেমনটা করে ওদের জীবনের ২৪ টা বছর কেটে গেছে, বাকি জীবনটাও সেভাবেই বন্ধুত্ত-স্নেহ-খুনসুটিতে কেটে যাবে।
কিন্তু এমনটা হয়েতো ওদের বাবা-মা ভাবেনি। গত পরশু কানা-খুসোতে সুদীপ জানতে পারে, রিমার বাড়িরতে ছেলে দেখাশুনো চলছে। যাচাই করতে কাল সুদীপ, রিমাকে জিজ্ঞাসা করেছে, কিন্তু কোন লাভ হয়েনি। ব্যাপারটা রিমাও প্রথম শুনেছে সুদীপের মুখ থেকে, রিমাও তাই আশ্চর্য হয়ে যায়ে। এই নিয়ে ওরা আর আলোচনা করেনি নিজেদের মধ্যে। ওরা দুজন এখনও বিচ্ছেদের ব্যাথা অনুভব করেনি।
আজ হয়েতো সেই কথাগুলই সুদীপকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। জানলাতে চোখ পরতেই সুদীপ তাই সেই পরিচিত চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে ছিল। কি যেন একটা বই পরছিল রিমা। হটাত একটা দমকা হওয়া দিল। হরিণী ওই চোখ দুটো থেকে রেশমি চুলটা সরাতে রিমাও দেখল ওর সাথীকে, বাঙ্কলিতে দাড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে। কত কি বলা বাকি থেকে গেল , সুদীপের চাওনিতে সেটা স্পষ্ট বোঝা যাছে। হয়েতো একটু ভুল বলা হোল, রিমার চোখে আজ সেই প্রফুল্লতা কেমন মলিন হয়েগেছে সুদীপকে দেখে। এক দৃষ্টিতে দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে, একটা শূন্যটা দুজনকে ভিতর থেকে খেয়ে ফেলছে। দুজনে জীবনের বইটা লেখা শুরু তো করেছিল, কিন্তু শেষটা লিখতে পারবে কিনা সেটার কোন সম্ভাবনা ওরা খুজে পেল না। একে অপরের চিন্তায়ে হারিয়ে ফেলা মনে সুদীপ নিজেকে খুজে পেল যখন বুঝতে পারল ওর হাতের সিগারেটটা জ্বলে ওর আঙুলে সেঁকা দিল। হাত নাড়িয়ে সিগারেটটা ফেলে দিতেই সুদীপ এক চেনা হাসির আওয়াজ শুনতে পেল, দেখতে পেল সুদীপের বাড়ির বাল্কনির উল্টো দিকে থাকা মেয়েটির অপরিম্লান হাসিটা এখানও একই রকম আছে।
