Tuesday, September 4, 2018

খুশির দিন

আজ সকাল থেকেই অজানা খুশিতে মিনু ঘরের কাজ করে যাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে বাসি কাজ সেরে মিনু সকালের জল খাবার তৈরির প্রস্তুতি করছে আর গুন গুন করে কি যেন একটা গান ধরেছে। "আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রান সুরের বাঁধনে---" বোধ করি এই গানটাই গুন গুন করে গাইছে। হটাতই গান বন্ধ করে দিয়ে তারস্বরে চিৎকার করল- "অঅঅঅঅমিমিমিতততত!!!!!"
-"উউঠছি"- ভিতরের ঘর থেকে বালিশে চাপা মুখ থেকে খীণ স্বরে ভেসে এলো আওয়াজটা।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আবার কাজে মন দিল মিনু। ঠিক যেন হটাত বিস্ফোরণের পরের স্থির পরিবেশের মতন।

অমিত,২৯ বছর বয়সই একটা প্রোডাক্ট কোম্পানির ব্যাস্ত ম্যানেজার। বাড়িতে এসে রাতের খাবার খাওয়া, রাতের ঘুম আর ভোরবেলা স্নান সেরে আবার অফিস যাওয়া- বাড়ির সাথে তার এইটুকুই সম্পর্ক। এমনকি রবিবারও সে বাড়িতে ল্যাপটপে কাজের রাশি নিয়ে বসে থাকে। সহজ সরল জীবন জাপনের থেকে মুখ সরিয়ে ধকলমূলক ব্যাস্ত কাজে অমিত নিজের খুশি খুজে পায়ে।

অপরদিকে- মিনু ওরফে মানসী, ২৭ বছরের প্রাপ্তবয়স্কা শুভ্র, শান্ত, সুশ্রী, স্রান্ত একটি মেয়ে, যে বাঁধনছাড়া জীবন থেকে বেরিয়ে এসে সে প্রনয়ে বাঁধা পরেছে। সে ব্যাস্ত, নিজের সংসারকে স্বপ্নের সংসারে পরিনত করতে,সে ব্যাস্ত, স্বামীর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে, উড়িয়ে দাওয়া খুশির ডানা গুলোকে লাগাম দিয়ে নিজেকে কারো মনের মতন করে তুলতে ব্যাস্ত, সর্বোপরি ওর ওই লাল সিঁদুর-শাঁখা-পলাকে জিয়িয়ে রাখতে সে ব্যাস্ত।

-"কি করছ মিনু?"- ঘরের ভিতর থেকে গম্ভীর গলায়ে জিজ্জাসা করল আমিত।
-"চা বসালাম, রুটি তরকারী করব এরপর, তুমি তারাতারি তৈরি হয়ে নাও" অনুরাগী মন, নিজ মনে হেসে মিনু আবারও বলল- "আজ জানো তোমার প্রিয় বাটার পনিরটা করব ভাবছি"

কথাটা শেষ হতে না হতেই ঘর থেকে কি যেন খছ খছ আওয়াজ এলো। সন্দেহের মতন করে একবার ভেবে মিনু আন্দাজ করলো অমিত হয়তো নতুন টুথ ব্রাশ খুঁজছে। আনমনা হয়ে গুন গুন করতে করতে আবার নিজের কাজে মন দিল সে।

রান্নাঘরে হটাত বজ্র বিদ্যুতের মতন আবির্ভাব ঘটল আমিতের। কাজে ব্যাস্ত মিনু সবজি হাতেই ঘুরে দাঁড়ালো।এ যেন এক হাসকর রূপে! মিনুর এক হাতের পনিরের এক টুকরো, তাই নিয়ে ও ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে আমিতের দিকে; কালকে রাতের বাসী নমনীয় কাপড় পরা, চুল এলমেল, ঘুম ভরা চোখ আর হাত দুটো পিছনে করে রাখা। আকস্মাত উদয়নে বিস্মিত মিনু বলল "কি হয়েছে?"

২ সেকেন্ড সব স্তব্ধ। আমিত একটা মলিন হাসি হাসল।

এ যেন সেই ব্যাস্ত মিনুর জীবনের এক বিরল দিন। না! ব্যাস্ততায়ে সদ্য বিবাহিত সম্পর্ক ভুলে যাবার ছেলে আমিত নয়। এর আগেও অনেকবার কাটা সবজি থেকে গাজর তুলে খেয়ে নাওয়া, এঁটো বাসন রান্নাঘরে এসে রেখে দাওয়া, ব্যাস্ত কাজে বিরক্ত করতে এসে পিছন থেকে মিনুকে আদরের আলিঙ্গন- এসবে মিনু ওয়য়াকিবহল। কিন্তু আজ যেন সেসব ইঙ্গিতের কোন লক্ষন পেল না মিনু আমিতের আকস্মাত উদয়নে।

হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল আমিত। অপ্রত্যাশিত মিনুর মন তখন, চখ দুটো বড় হয়ে গেলো, হাত থেকে পনিরের টুকরোটা পরে গেলো। আমিত পিছনে রাখা হাতটা  সামনে আনল। বিস্মিত মিনুর চোখ তখন আমিতের হাতের দিকে। 

একটা লাল গোলাপ আর একটা চকোলেটের প্যাকেট মিনুর দিকে বাড়িয়ে অমিত বললো -

তুমি চাইলে মেঘ হবো ,এনে দেবো বৃষ্টি ।।
তুমি চাইলে আকাশ,হবো ,হবো হাসির মিষ্টি ।।
তুমি না চাইলেও জনম জনম ,,
বাসবো তোমায় ভালো ।।
তুমি চাঁদ নও, তবে চাঁদের আলো।
তুমি ফুল নও, তবে ফুলের সৌরভ।
তুমি নদী নও, তবে নদীর ঢেউ।
তুমি অচেনা নও, তুমি আমার চেনা কেউ॥
““শুভ জন্মদিন সোনাই!!””

No comments:

Post a Comment

তিন থেকে তিনে

রবিবারের দুপুর...খাওয়া শেষ করে টিভি চালিয়ে বসে আয়েস করছিলাম। হটাত শেখরের ফোন এল- "বিকালে চা খেতে আসবি? আড্ডাও দেব"। আমি ঘড়ির দিকে ...