অমিত-নিলেশ-রমিত হোল ৩ বন্ধু। আনন্দগ্রামের বসবাসকারী একদম বাল্যকালের বন্ধু, লোকে ওদের থ্রি মাস্কেটিয়ার্স বলে। ব্যাস্ত জীবনে রোজের খাটাখাটনির পরেও রবিবার বিকালে লালুদার দোকানে চায়ের আড্ডা ওদের কোনদিনও বন্ধ হয়েনা। ওদের কথা বলার জন্য কোন বিষয়ে ভাবতে হয়েনা, ওরা একসাথে ৩জন মিললেই ৪-৫ ঘণ্টা এমনই কেটে যায়ে।
এমনই এক রবিবারের বিকালে ওরা ৩জন বসে গল্প করছে। রমিতের মুখের ভাবমূর্তিতে কেমন এক অসহায়ের ছোপ দেখা গেলো। জিজ্ঞাসা করাতে বলল-ভাই, কদিন ধরে কেমন একটা নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে জানিস।
-কেন রে? আবার কেউ ব্লক করে দিল নাকি?- মজার মেজাজে বসে থাকা নিলেশ বলে উঠল।
-আরে নারে।শোন দাড়া। এইবলে রমিত কিছুটা স্তব্ধ হয়ে আবার বলতে শুরু করল।
সেদিন অফিস থেকে ফিরছিলাম। জানিসই তো বিকাল ৬ টায়ে ওই রাস্তায়ে পিঁপড়ের মাথার মতন মানুষ গিজগিজ করে। ভাগ্য করে ৮৬ নাম্বার বাস টাও পেয়ে গেলাম। ভিড় ঠাসা বাস; কিন্তু উঠে দাঁড়াবার জায়গা কোথায়ে। কিন্তু কার ঘাড়ে কটা মাথা যে কন্ডাক্টরকে বলবে। কন্ডাক্টরের চোখে তো বাস পুরো ফাঁকা। ল্যাপটপের ওজনে পিঠের ব্যাগটা আমাকে পীঠ ধরে যেন নিচে ফেলে দায়ে। সহ্য করতে না পেরে ব্যাগটা সামনে নিলাম ওই ব্যাগের দুই হাতল পিছনে করে বুকের সামনে বোঝার মতন করে। পিছনে লোকজনের ঠেলা খেতে খেতে বাসের বাঁ দিকের লেডিস সিটের দিকে তৃতীয় সিটের সামনে দুই হাত দিয়ে সিট দুটো আঁকড়েধরে দাড়িয়ে থাকলাম। নিশ্চিন্ত এবার ঠেলাঠেলিতে পরে যাবার ভয়টা রইল না। মিনিট সাতেক পর কন্ডাক্টর এসে যথারীতি বাস ভাড়াটা নিয়ে গেলো। নিশ্চিন্ত হয়ে খুচরো পয়সাগুলো পকেটে রাখলাম। খেয়াল করলাম আমার সামনে দুটি মেয়ে আমারই বয়সই হবে, কানে হেডফোন নিয়ে বসে গান শুনছে আর জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। আমার ঠিক সামনের মেয়েটি পরনে ধুসর রঙের কুর্তি, তাতে ছোট জড়ির পার লাগানো, সুশোভিত গোছালো চুল- আলগা বেনুনি করা আর সেই ঘন চুলের গোছাটা ঘাড়ের পাশ দিয়ে সামনে করে রাখা, টিকালো নাখ, শুভ্র দেহ, ওড়না ছাড়া থাকায়ে আমি ওর ঘাড়ের ছোট ছোট চুল গুলোয় ললুপ্ত হয়েগেছিলাম, মেয়েটির সুদৃঢ় সুডোল তনু, ডান হাতে মোবাইল যার সাথে হেড ফোনের তাঁরটা লাগানো আর বাঁ হাতটা এমনই উরুর উপর রাখা। আমি অতি নির্লজ্জের মতন মেয়টিকে দেখে যাচ্ছি। ল্যাপটপের ওজনের ব্যাথার কথাটা যেন আমি ভুলেই গেলাম। শকুনের চোখ দিয়ে আমি ওই মেয়েটির শরীর গ্রাস করছি। নিজের মধ্যে দোষী হবার কোন ভাবনা আমার মধ্যে নেই। ওর শরীরের প্রতিটি ক্ষেত্র যেন আমি অতি সুক্ষতার সাথে দেখে চলছি, আমার এতটুকু চক্ষু লজ্জা নেই।
এইভাবে কিছুদুর বাস এগিয়ে গেলো। সামনে করুন্ময়ি বাস স্টপ, এখানে বাস বেশ কিছুক্ষণ দারাবে। আচমকা মেয়েটি ফোনটা নিয়ে কি যেন দেখল। আনমনা মেয়টি হটাতই অনুধাবন করল আমি মেয়টির পাশে অনেকখন দাড়িয়ে আছি। মেয়েটি আমার দিকে তাকাল। আমি অবাক দৃষ্টিতে ওর মুখের দিকে চেয়ে রইলাম। ওর চিকন গাল, মায়াবী চোখ, ছোট্ট কিন্তু পুরু বিলাসী ঠোঁট, অথচ আমি ওর মুখে এক হাসি দেখতে পাই। সেই মনোহর মুখে চেয়ে আমাকে বলল- "আপনি আপনার ব্যাগটা আমাকে দিতে পারেন। আমি ধরছি।"
কামনতা আমার চোখটা তখন লজ্জায়ে নিচু হয়েযায়ে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমি যেন ওই মেয়েটির কথার দাস হয়ে যাই। কিছু না ভেবেই হাত থেকে ব্যাগটা খুলে মেয়টির হাতে দিয়েদি। কৃতার্থবোধের অবকাশ টুকু আমার মনে এলো এর পর, আমিও বললাম- "আপনার অসুবধা হবে না তো?"
মেয়েটি মুগ্ধকারী হাসিতে বলল- "না না" তারপর আবার হেড ফোনের গানে মননিবেশ করল।
আমার মনটা তখন কেমন এক উদাস হয়ে পরল। পুরুষসমাজই দেশে মেয়টি কেমন করে আমকে "নারীপুরুষ অভিন্ন" মানসিকতাটাকে দৃঢ় করে দিল। সমস্থ রাস্তা আমি নিজেকে ধিক্কার জানালাম নিজের পাপ চিন্তাধারার জন্য। "ধন্যবাদ" বলে অতি লজ্জিত চোখে মেয়টির থেকে ব্যাগ নিয়ে গন্তব্য স্থলে নেমে গেলাম।
সেদিন থেকেই জানিস ভাই আমার নিজেকে কেমন একটা অপরাধী লাগছে।
-এতো চিন্তা করিস না। মুচকি হেসে বলল নিলেশ। আরও বলল- তুই যে নিজের অপরাধটা বুঝতে পারলি, এটাই যথেষ্ট। প্রতিদিন ট্রেন বাসে কত মেয়ের এইভাবেই সতীত্বনাশ হয়ে। কখনও পুরুষের চোখ দিয়ে, কখনও ক্ষিপ্ত হাত দিয়ে, কখনওবা ব্যঙ্গ ভাষায়ে কটূক্তি করা। ওই মানুষগুলোর সেই অপরাধবোধটা আজও এলো না।
এই বলে তিনজনেই চায়ে মুখ দিল।
এমনই এক রবিবারের বিকালে ওরা ৩জন বসে গল্প করছে। রমিতের মুখের ভাবমূর্তিতে কেমন এক অসহায়ের ছোপ দেখা গেলো। জিজ্ঞাসা করাতে বলল-ভাই, কদিন ধরে কেমন একটা নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে জানিস।
-কেন রে? আবার কেউ ব্লক করে দিল নাকি?- মজার মেজাজে বসে থাকা নিলেশ বলে উঠল।
-আরে নারে।শোন দাড়া। এইবলে রমিত কিছুটা স্তব্ধ হয়ে আবার বলতে শুরু করল।
সেদিন অফিস থেকে ফিরছিলাম। জানিসই তো বিকাল ৬ টায়ে ওই রাস্তায়ে পিঁপড়ের মাথার মতন মানুষ গিজগিজ করে। ভাগ্য করে ৮৬ নাম্বার বাস টাও পেয়ে গেলাম। ভিড় ঠাসা বাস; কিন্তু উঠে দাঁড়াবার জায়গা কোথায়ে। কিন্তু কার ঘাড়ে কটা মাথা যে কন্ডাক্টরকে বলবে। কন্ডাক্টরের চোখে তো বাস পুরো ফাঁকা। ল্যাপটপের ওজনে পিঠের ব্যাগটা আমাকে পীঠ ধরে যেন নিচে ফেলে দায়ে। সহ্য করতে না পেরে ব্যাগটা সামনে নিলাম ওই ব্যাগের দুই হাতল পিছনে করে বুকের সামনে বোঝার মতন করে। পিছনে লোকজনের ঠেলা খেতে খেতে বাসের বাঁ দিকের লেডিস সিটের দিকে তৃতীয় সিটের সামনে দুই হাত দিয়ে সিট দুটো আঁকড়েধরে দাড়িয়ে থাকলাম। নিশ্চিন্ত এবার ঠেলাঠেলিতে পরে যাবার ভয়টা রইল না। মিনিট সাতেক পর কন্ডাক্টর এসে যথারীতি বাস ভাড়াটা নিয়ে গেলো। নিশ্চিন্ত হয়ে খুচরো পয়সাগুলো পকেটে রাখলাম। খেয়াল করলাম আমার সামনে দুটি মেয়ে আমারই বয়সই হবে, কানে হেডফোন নিয়ে বসে গান শুনছে আর জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। আমার ঠিক সামনের মেয়েটি পরনে ধুসর রঙের কুর্তি, তাতে ছোট জড়ির পার লাগানো, সুশোভিত গোছালো চুল- আলগা বেনুনি করা আর সেই ঘন চুলের গোছাটা ঘাড়ের পাশ দিয়ে সামনে করে রাখা, টিকালো নাখ, শুভ্র দেহ, ওড়না ছাড়া থাকায়ে আমি ওর ঘাড়ের ছোট ছোট চুল গুলোয় ললুপ্ত হয়েগেছিলাম, মেয়েটির সুদৃঢ় সুডোল তনু, ডান হাতে মোবাইল যার সাথে হেড ফোনের তাঁরটা লাগানো আর বাঁ হাতটা এমনই উরুর উপর রাখা। আমি অতি নির্লজ্জের মতন মেয়টিকে দেখে যাচ্ছি। ল্যাপটপের ওজনের ব্যাথার কথাটা যেন আমি ভুলেই গেলাম। শকুনের চোখ দিয়ে আমি ওই মেয়েটির শরীর গ্রাস করছি। নিজের মধ্যে দোষী হবার কোন ভাবনা আমার মধ্যে নেই। ওর শরীরের প্রতিটি ক্ষেত্র যেন আমি অতি সুক্ষতার সাথে দেখে চলছি, আমার এতটুকু চক্ষু লজ্জা নেই।
এইভাবে কিছুদুর বাস এগিয়ে গেলো। সামনে করুন্ময়ি বাস স্টপ, এখানে বাস বেশ কিছুক্ষণ দারাবে। আচমকা মেয়েটি ফোনটা নিয়ে কি যেন দেখল। আনমনা মেয়টি হটাতই অনুধাবন করল আমি মেয়টির পাশে অনেকখন দাড়িয়ে আছি। মেয়েটি আমার দিকে তাকাল। আমি অবাক দৃষ্টিতে ওর মুখের দিকে চেয়ে রইলাম। ওর চিকন গাল, মায়াবী চোখ, ছোট্ট কিন্তু পুরু বিলাসী ঠোঁট, অথচ আমি ওর মুখে এক হাসি দেখতে পাই। সেই মনোহর মুখে চেয়ে আমাকে বলল- "আপনি আপনার ব্যাগটা আমাকে দিতে পারেন। আমি ধরছি।"
কামনতা আমার চোখটা তখন লজ্জায়ে নিচু হয়েযায়ে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমি যেন ওই মেয়েটির কথার দাস হয়ে যাই। কিছু না ভেবেই হাত থেকে ব্যাগটা খুলে মেয়টির হাতে দিয়েদি। কৃতার্থবোধের অবকাশ টুকু আমার মনে এলো এর পর, আমিও বললাম- "আপনার অসুবধা হবে না তো?"
মেয়েটি মুগ্ধকারী হাসিতে বলল- "না না" তারপর আবার হেড ফোনের গানে মননিবেশ করল।
আমার মনটা তখন কেমন এক উদাস হয়ে পরল। পুরুষসমাজই দেশে মেয়টি কেমন করে আমকে "নারীপুরুষ অভিন্ন" মানসিকতাটাকে দৃঢ় করে দিল। সমস্থ রাস্তা আমি নিজেকে ধিক্কার জানালাম নিজের পাপ চিন্তাধারার জন্য। "ধন্যবাদ" বলে অতি লজ্জিত চোখে মেয়টির থেকে ব্যাগ নিয়ে গন্তব্য স্থলে নেমে গেলাম।
সেদিন থেকেই জানিস ভাই আমার নিজেকে কেমন একটা অপরাধী লাগছে।
-এতো চিন্তা করিস না। মুচকি হেসে বলল নিলেশ। আরও বলল- তুই যে নিজের অপরাধটা বুঝতে পারলি, এটাই যথেষ্ট। প্রতিদিন ট্রেন বাসে কত মেয়ের এইভাবেই সতীত্বনাশ হয়ে। কখনও পুরুষের চোখ দিয়ে, কখনও ক্ষিপ্ত হাত দিয়ে, কখনওবা ব্যঙ্গ ভাষায়ে কটূক্তি করা। ওই মানুষগুলোর সেই অপরাধবোধটা আজও এলো না।
এই বলে তিনজনেই চায়ে মুখ দিল।
No comments:
Post a Comment